সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ন
ভয়াবহতম ভূমিকম্পে মৃত্যুপুরী মিয়ানমার, ধ্বংসস্তূপে চাপা হাজারো মানুষ!
মিয়ানমারে শুক্রবারের (২৯ মার্চ) ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে ২,৭১৯-এ পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির জান্তা সরকার। আহত হয়েছেন ৪,৫২১ জন, নিখোঁজ অন্তত ৪৪১ জন। উদ্ধারকাজ চলছে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খোঁজে।
সামরিক সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) এক টেলিভিশন ভাষণে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মান্দালয় ও সাগাইং অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা গেছে। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের পর দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয়ের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) জানিয়েছে, বিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য, পানি ও ওষুধ সহায়তা প্রয়োজন।
জাতিসংঘের এক কর্মকর্তার তথ্যমতে, মান্দালয়ের একটি প্রাক্-প্রাথমিক বিদ্যালয় ধসে অন্তত ৫০ শিশু ও ২ শিক্ষক নিহত হয়েছেন। হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ভেঙে পড়ায় চিকিৎসা সেবা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
ভূমিকম্পে নিহতদের স্মরণে মিয়ানমারে এক সপ্তাহের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। ৬ এপ্রিল পর্যন্ত জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে ভূমিকম্পে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
বিপর্যস্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্তর্জাতিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে জান্তা সরকার। বাংলাদেশ, চীন ও থাইল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে ৫৫ সদস্যের উদ্ধার ও চিকিৎসা দল প্রয়োজনীয় ওষুধ, শুকনো খাবার ও আশ্রয় সামগ্রী নিয়ে মিয়ানমারে পৌঁছেছে। সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীর যৌথ অভিযানে ত্রাণ সহায়তা পাঠানো হচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা দ্রুত সহায়তার হাত না বাড়ালে মিয়ানমারে মানবিক বিপর্যয় ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।